জীবন ও ভাবনার কথা
লেখাস্বত্ব ও পুনঃপ্রকাশ নীতিমালা: এই লেখার সর্বস্বত্ব সম্পূর্ণভাবে নিজ নিজ লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। লেখকগণের পূর্বানুমতি ব্যতীত লেখার কোনো অংশ বা সম্পূর্ণ লেখা কোনো মাধ্যম বা প্ল্যাটফর্মে পুনঃপ্রকাশ, অনুলিপি বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
রবিবার। সকালে উঠে এক মগ কফি হাতে বারান্দায় এসে বসলাম। সারা রাত ধরে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হয়েছে। বাতাসে ভেজা মাটির গন্ধ।
আমার নাক বরাবর প্রায় বিশ ফুট দূরে, প্রাচীরের ওপর কুমড়োলতার পাশে এসে বসল একটা কবুতর। বুকের কাছটা খয়েরি আর ডানাদুটো সাদা।
হঠাৎ আমার বামদিক থেকে একটা টুপটুপ শব্দ কানে এলো। কোথাও জলের ফোঁটা পড়ছে। মনে হলো, কাল বিকেলে বাগানে জল দেওয়ার পর কলটা হয়তো ভালো করে বন্ধ করা হয়নি। উঠে গেলাম দেখতে। কল থেকে জল পড়ছিল না, বারান্দার চালের কোণের খুঁটির সাথে লাগানো পাইপটা দিয়ে জমা জল নেমে যাচ্ছিল মাটিতে। এই পাইপটা এতদিন চোখেই পড়েনি।
ফিরে এসে ইউক্যালিপ্টাসের বেঞ্চিটায় বসলাম। সেই খয়েরি-সাদা কবুতরটা এখনও সেখানেই আছে। ওদিকের বাড়ির টালির ছাদে, টিভি- অ্যান্টেনার পাশে আরও একটা কবুতর এসে বসেছে এর মধ্যেই। এটার রঙ মাখনের মতো হালকা ঘিয়ে। ঠিক তখনই মেঘের অনেক ওপর দিয়ে, গুরুগম্ভীর শব্দ তুলে একটা প্লেন চলে গেল।
খয়েরি-সাদা কবুতরটা নিচে নেমে এসে এবার বসল আমাদের উঠোনের ঘাসে। ঘাসের মধ্যে মধ্যে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পোকাদের দেখতে পেয়েছে বুঝি। সেগুলোই খুঁজে নিচ্ছে।
ডান দিকের বাড়ির ভেতরের বারান্দার কাচের দরজাটা ঘরঘর শব্দে খুলে যেতে শুনলাম। আমাদের বারান্দার সাদা সিলিংয়ে খুব আবছাভাবে দেখতে পেলাম ওপাশে কারো নড়াচড়ার অবয়ব। এই সময়ে হুই ছাড়া বাড়িতে কেউ থাকে না।
'কে, হুই নাকি? গুড মর্নিং,' আমি চেঁচিয়ে বললাম।
ওপাশ থেকে হুইয়ের হাসিখুশি চিকন কণ্ঠ ভেসে এলো, 'গুড মর্নিং গুড মর্নিং, কেমন আছো?' তারপর ওদের নার্সারি বেডের ধার ধরে দাঁড়িয়ে হাতে ভর দিয়ে সে পাঁচিলের ওপর দিয়ে উঁকি দিল- 'এই দ্যাখো দেখি ওয়েদারটা কেমন হয়ে আছে, রোদ তো উঠলই না। সামনের দুদিনও টানা বৃষ্টি...'
আমাদের টুকটাক কথাবার্তার মাঝে ওদের বাড়ির বেল বেজে উঠল। 'মনে হয় ডেলিভারি এসেছে,' বলে হুই বাড়ির ভেতরে চলে গেল।
তিনটা দোয়েল পাখি ত্রিভুজের মতো করে উড়ে এসে বসল বাগানের জল থৈ থৈ করা বার্ড বাথটার গায়ে, তিনজনই একসাথে । পরক্ষণেই কি বুঝল কে জানে, আবার ত্রিভুজ হয়ে উড়ে চলে গেল এক সাথে। খয়েরি-সাদা কবুতরটা তখনো আছে। নাম না জানা আরও কিছু পাখি ঝাঁক বেঁধে আমার মাথার ওপর একটা ঘুরান দিয়ে সশব্দে উড়ে গেল ওদের সাময়িক কোনও গন্তব্যের দিকে।
ততক্ষণে, পেছনের বাড়ির টালির ছাদের ওপর বসে থাকা ঘিয়ে রঙের কবুতরটা এসে খয়েরি-সাদাটার সাথে সামিল হয়েছে। দুজনে মহা উৎসাহে পোকামাকড় খুঁটে খাচ্ছে। তখন অদূরে টিলা অঞ্চলে, র্যাভেনব্রুকের দিক থেকে একটা হাইস্পিড ওয়েস্টবাউন্ড ট্রেন এয়ারহর্ন দিতে দিতে সোজা মিলিয়ে গেল অ্যাশফোর্ডভেইল স্টেশনের দিকে।
---
প্রশ্ন: ভেবে দেখুনতো, র্যাভেনব্রুক স্টেশন আমার কোনদিকে অবস্থিত?
১৯ আগস্ট, ২০২৫
লেখাস্বত্ব ও পুনঃপ্রকাশ নীতিমালা: এই লেখার সর্বস্বত্ব সম্পূর্ণভাবে নিজ নিজ লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। লেখকগণের পূর্বানুমতি ব্যতীত লেখার কোনো অংশ বা সম্পূর্ণ লেখা কোনো মাধ্যম বা প্ল্যাটফর্মে পুনঃপ্রকাশ, অনুলিপি বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।